শনিবার । ৩০শে মে, ২০২৬ । ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

৩৯ বিঘার বাগানে ১২’শ গাছে আমের বাম্পার ফলন, ২০ লাখ টাকা বিক্রির আশা

একরামুল হোসেন লিপু

আইন পেশার পাশাপাশি দীর্ঘ চার দশক ধরে সম্পূর্ণ অর্গানিক (জৈব) উপায়ে আম চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন। খুলনার দিঘলিয়ায় পৈতৃক ও নিজস্ব কেনা জমি মিলিয়ে মোট ৩৯ বিঘা জায়গাজুড়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল আম বাগান, যা এখন এলাকায় ‘ম্যাংগো হ্যাভেন’ নামে পরিচিত। বাগানটিতে ঘরবাড়ি, পুকুর ও বাঁশবাগানের পাশাপাশি রয়েছে তাঁর নিজের হাতে লাগানো ১ হাজার ২০০টি ফলন্ত আম গাছ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বাগানটিতে গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ১ হাজার মণ আম উৎপাদন এবং প্রায় ২০ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন এই সফল চাষি।

অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন, বাল্যকাল থেকেই কৃষির প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। ১৯৮২ সালে এসএসসি পাসের পর পৈতৃক জমিতে পুষ্টিকর আমের আঁটি ও চারা সংগ্রহ করে গাছ লাগানো শুরু করেন। গত ৪০ বছরে কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তোলা এই বাগানে এখন রয়েছে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাংগো এবং বারোমাসি কাটিমনসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের আম। বাগানটিতে সর্বোচ্চ ৬০ বছর বয়সী একটি হিমসাগর ও একটি ল্যাংড়া গাছ রয়েছে, যা থেকে প্রতি বছর গড়ে ২০ মণ আম পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, খুলনাঞ্চলের মাটির গুনাগুণের কারণে এখানকার আমের মিষ্টির ঘনত্ব দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি। সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত এই আম পরিপক্ব হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য তিনি এক অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। বাগানের আম পশুপাখিরা ১০ শতাংশ খাওয়ার পর যখন তিনি বুঝতে পারেন আম পরিপক্ব হয়েছে, ঠিক তখনই তা পেড়ে বাজারজাতকরণ শুরু করেন।

কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে ‘রাষ্ট্রপতি পদক’ এবং ২০১১ সালে বৃক্ষরোপণে ‘প্রধানমন্ত্রী পদক’ লাভ করেন।

এই কাজে তাঁর প্রয়াত স্ত্রী (খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ) এবং পরিবারের অন্যান্য শিক্ষিতা সদস্যরা তাঁকে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আইন পেশার পাশাপাশি আম চাষই এখন তাঁর মূল ভালোলাগা ও পেশায় পরিণত হয়েছে, যা দেখে স্থানীয় অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন